ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে দীর্ঘ ছয় দশকের দ্রাবিড় আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। রোববার (১০ মে) সকালে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যের গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার।
নতুন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এন আনন্দ, আধব অর্জুন, রাজমোহন, নির্মল কুমার, পি ভেঙ্কটরামানান, কে জি অরুণ রাজ, কে এ সেনগোট্টাইয়ান, টি কে প্রভু ও সেলভি এস কীর্তনা।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান, থালাপতি বিজয়ের পরিবারের সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক সমর্থক।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সরকার গঠন নিয়ে কয়েকদিন রাজনৈতিক আলোচনা ও জোট গঠনের তৎপরতা চলে। শনিবার দলীয় নেতাদের নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন থালাপতি বিজয়। পরে গভর্নর তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানান।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) সবচেয়ে বেশি ১০৮টি আসন পায়। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। শুরুতে জোটের সমর্থন ১১৬ আসনে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ সমর্থন দেওয়ায় জোটের আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২০-এ।
৫১ বছর বয়সী থালাপতি বিজয় এই নির্বাচনে দুটি আসন থেকেই জয় লাভ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বিজয় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়