মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আড়ালিয়া ও কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার হরিপুরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ চাঁদা দাবির অভিযোগে বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রহিম বাদশার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। তার হুমকির মুখে জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়ে গত দুই দিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)-এর অধীনে ‘গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’ এর আওতায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৭৫ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। গজারিয়া ও মেঘনা উপজেলাকে সংযুক্তকারী এই সেতুর কাজ ২০২১ সালে শুরু হয় এবং ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটি দুই বছর পিছিয়ে যায়। বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে। সাইটে থাকা শ্রমিকরা কাজ না করে অলস সময় পার করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী রহিম বাদশার হুমকির কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় তারা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তার হোসেন জানান, সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয়দের কাছ থেকে ১৪৬ শতাংশ জমি নির্দিষ্ট মেয়াদে লিজ নেওয়া হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈধ। এর মধ্যে অভিযুক্ত রহিম বাদশার ২১ শতাংশ জমিও রয়েছে, যার জন্য তাকে ইতোমধ্যে ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত সোমবার রাত ৯টার দিকে রহিম বাদশা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে এসে হিসাবরক্ষক মনিরুজ্জামানের কাছে মাসিক ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান। তার এই হুমকির পর থেকেই শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি মৌখিকভাবে গজারিয়া থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রহিম বাদশা দাবি করেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির লিজের মেয়াদ চার মাস আগে শেষ হয়ে গেছে এবং তিনি আর জমি লিজ দিতে আগ্রহী নন। তাই জমি ব্যবহার না করতে বলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির মেঘনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কোনো উন্নয়ন প্রকল্প কারো হুমকিতে বন্ধ থাকার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়