প্রকৃতির নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি—তাদের শৈল্পিক বাসা আর নতুন জীবনের স্বপ্ন এক মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেল এক কৃষকের হাতে। ঘটনাটি ঘটেছে বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া এলাকায়, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জমির ধান খাওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে বাচা মিয়া (৪৮) নামের এক কৃষক ২৭টি বাবুই পাখির বাসা ভেঙে ফেলেন। এতে ২৯টি ছানা এবং অসংখ্য ডিম নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান ফারুক। তিনি জানান, গ্রামবাসী এবং স্থানীয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
অভিযানে গিয়ে ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তালগাছ থেকে বাবুই পাখির ২৭টি বাসা ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে ২৯টি মৃত ছানা ও বেশ কিছু ভাঙা ডিম পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
দণ্ডপ্রাপ্ত বাচা মিয়া পোপাদিয়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানান, বাবুই পাখি তার খেতের ধান খেয়ে ফেলছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এই কাজটি করেছেন।
এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাচা মিয়াকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাবুই পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের নির্মম আচরণ শুধু আইনত অপরাধই নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নিন্দনীয়।
ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানই টেকসই ভবিষ্যতের একমাত্র পথ।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়