
প্রথমার্ধে দারুণ ফুটবল খেলে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। তবে বিরতির পর এক আত্মঘাতী গোল তাদের জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে মিশর ও বেলজিয়াম।
সোমবার সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে ইমাম আশুরের গোলে প্রথমে লিড নেয় মিশর। দ্বিতীয়ার্ধে মিশরের ডিফেন্ডার মোহামেদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গোলের পরিস্থিতি তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রোমেলু লুকাকু।
এই ড্রয়ের ফলে বিশ্বকাপে মিশরের জয়খরা আরও দীর্ঘ হলো। চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে এখন পর্যন্ত আট ম্যাচ খেলেও কোনো জয় পায়নি আফ্রিকার দলটি। তাদের রেকর্ড দাঁড়িয়েছে তিন ড্র ও পাঁচ হার। ২০১৮ সালের পর এবারই আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলছে তারা।
ম্যাচের শুরুতে দুই দলই সুযোগ তৈরিতে কিছুটা সতর্ক ছিল। তবে ১৯তম মিনিটে প্রথম কার্যকর আক্রমণ থেকেই গোল আদায় করে নেয় মিশর। মোহামেদ সালাহর পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শক্তিশালী শটে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইমাম আশুর।
জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল ২৮ বছর বয়সী আশুরের প্রথম গোল। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই গোল করে স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেন তিনি।
গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিশর। ৩৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পান মোস্তাফা জিকো। তবে তার নিচু শট দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন কোর্তোয়া। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জেরেমি ডোকু সহজ সুযোগ নষ্ট করলে সমতায় ফিরতে পারেনি বেলজিয়াম। অন্যদিকে ওমার মার্মুশের শটও প্রতিহত করেন কোর্তোয়া।
প্রথমার্ধে মিশরের আক্রমণ ছিল বেশি কার্যকর। এ সময় বেলজিয়াম লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি।
বিরতির পর খেলার চিত্র বদলে যায়। বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে বেলজিয়াম। ৫৩তম মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের ফ্রি-কিক পোস্টে আঘাত হানলে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের। দুই মিনিট পর অপর প্রান্তে সালাহর হেডও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।
অবশেষে ৬৬তম মিনিটে সমতায় ফেরে ইউরোপের দলটি। বদলি হিসেবে মাঠে নামার পরই আক্রমণে প্রাণ ফেরান রোমেলু লুকাকু। ডান দিক থেকে তমাস মুনিয়েরের পাস ধরে শট নিতে গেলে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন দুই মিশরীয় ডিফেন্ডার। এ সময় বল মোহামেদ হানির পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে সমতা পায় বেলজিয়াম।
চোটের কারণে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে খুব বেশি খেলতে না পারলেও বিশ্বকাপ দলে লুকাকুর ওপর আস্থা রেখেছিলেন বেলজিয়ামের কোচ। প্রস্তুতি ম্যাচের পর বিশ্বকাপেও মাঠে নেমে তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখিয়ে সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
এদিন নিজের ৩৪তম জন্মদিনে মাঠে নেমে ইতিহাসও গড়েন মোহামেদ সালাহ। ১৯৬৬ সালে পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বকাপে জন্মদিনের ম্যাচে গোলে অবদান রাখা প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার হন তিনি।
শেষ পর্যন্ত বাকি সময়ে আর কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। ফলে এক পয়েন্ট নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে হয়েছে মিশর ও বেলজিয়ামকে।