
বাগেরহাট থিয়েটার ও আবৃত্তি সংগঠন শব্দকল্পদ্রুমের যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে আবৃত্তি প্রযোজনা, একক আবৃত্তি এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী নাটক ‘ডাকঘর’-এর নির্বাচিত অংশের শ্রুতি নাট্য পরিবেশনা।
গত ৫ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় ‘চর্যাপদ ও বাংলার মুখ’ শীর্ষক আবৃত্তি প্রযোজনা, নির্বাচিত আঞ্চলিক কবিতার একক আবৃত্তি ‘পিরীতের পূর্ণিমার চাঁন’ এবং ‘ডাকঘর’ নাটকের নির্বাচিত অংশের শ্রুতি নাট্যরূপ।
‘চর্যাপদ’ পরিবেশনায় অংশ নেন লায়লা আক্তার, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, প্রত্যাশা বিনতে শাহিন ও পলি হাওলাদার। প্রযোজনাটির নির্দেশনা দেন নাজমুল আহসান এবং এটি প্রযোজনা করে শব্দকল্পদ্রুম।
নির্বাচিত আঞ্চলিক কবিতার আবৃত্তি ‘পিরীতের পূর্ণিমার চাঁন’-এ অংশগ্রহণ করেন লুনা আফরোজা, শেখ হালিমা ফারহানা মিতু, হীরা আক্তার, রুমানা হক রিতা, শর্বরী দে রাত্রি, তুষার কান্তি রায়, জলি খাতুন, মিমহা বিনতে মুনীর, রনিতা সরকার, পলি হাওলাদার, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, লায়লা আক্তার এবং ইসমাইল হোসেন নয়ন। এ প্রযোজনার নির্দেশনাও দেন নাজমুল আহসান।
‘বাংলার মুখ’ শীর্ষক আবৃত্তি গ্রন্থনায় স্থান পায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, প্রতুল মুখোপাধ্যায়, মহম্মদ নূরুল হুদা, হুমায়ুন আজাদ এবং মারুফুল ইসলামের কবিতা।
এই পরিবেশনায় অংশ নেন লুনা আফরোজা, শর্বরী দে রাত্রি, জলি খাতুন, তুষার কান্তি রায়, শেখ হালিমা ফারহানা মিতু ও হীরা আক্তার। এর গ্রন্থনা ও নির্দেশনাতেও ছিলেন নাজমুল আহসান।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতীকী নাটক ডাকঘর-এর নির্বাচিত অংশের শ্রুতি নাট্যরূপ। অমল নামের এক অসুস্থ শিশুকে কেন্দ্র করে রচিত এ নাটকে আত্মিক মুক্তি, মানবাত্মার স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্বমানবতার চেতনা তুলে ধরা হয়।
শ্রুতি নাটকে অভিনয় করেন—
নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন নাজমুল আহসান।
মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন অপু আহমেদ। আলো পরিকল্পনায় ছিলেন মারুফ ও লিনসা, সংগীতে ঝর্না দেবনাথ, আবহসংগীতে দেবু পাল, শব্দ পরিচালনায় লিটন রায় এবং চিত্রায়নে রাজিব আহমেদ ও এস কে সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয় করেন মুকিতুল কবীর।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শক, গণমাধ্যমকর্মী এবং নাট্য ও আবৃত্তি অনুরাগীদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।