
বরিশাল নগরীর সদর রোডে অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার (৫ জুলাই) অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও তার সহযোগী আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে প্রবেশ করে আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে তার কাছ থেকে দুটি চেক ও দুটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পুরো ঘটনার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অফিসে প্রবেশের পর উপস্থিত অন্যদের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আব্দুল আজিজকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একপর্যায়ে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। পরে স্বাক্ষর নেওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে ধারণ করা হয়।
আব্দুল আজিজ অভিযোগ করেন, একসময় মোস্তাফিজুর রহমান তার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে উভয়ের আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত করে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে সব পাওনা পরিশোধ করা হয়। এরপরও গত কয়েক মাস ধরে মোস্তাফিজুর রহমান এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।
তার দাবি, ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ২৭ জুন সন্ধ্যায় কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে অফিসে এসে তাকে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তিনি ব্যাংককে বিষয়টি জানিয়ে চেকের লেনদেন বন্ধ করেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের আগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু দাবি করেন, আব্দুল আজিজের কাছে তার ৫০ লাখ টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। বহুবার দাবি জানিয়েও টাকা না পেয়ে ক্ষোভের বশে তিনি ওই আচরণ করেছেন বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে আরও অনেকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আশিক সাঈদ জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।