
শেষ ষোলোতে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। ১৫তম মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসির ইব্রাহিম।
গোল হজমের পরপরই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি পেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি লিওনেল মেসি। তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ব্যবধান আর কমানো সম্ভব হয়নি। এরপর মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা দুর্দান্ত সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে মিশরের এগিয়ে থেকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। তবে মিশরের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের বেশ ভুগিয়েছে। ৬৭তম মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে হাসানের পাস ধরে জিকো গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
এর আগে জিকোর আরেকটি গোল আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে বাতিল হয়েছিল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। ৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির ক্রস থেকে দারুণ হেডে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো।
মাত্র পাঁচ মিনিট পর, ৮৪তম মিনিটে নিজেই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান মেসি। গোলরক্ষকের ছোঁয়া লেগে ফিরে আসা বল জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের অষ্টম গোলটি করেন তিনি।
সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোল করেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ।
এই জয়ে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে নিজেদের শিরোপার দাবিদার হিসেবে আবারও শক্ত বার্তা দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।