
২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর এক লাখ বেকার তরুণ-তরুণীকে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতেও কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আফতাবনগরে ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মিডিয়া কানেক্ট সামিট’-এ এ তথ্য জানান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহম্মদ।
দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমের সম্পাদক, সংবাদপ্রধান, বিপণনপ্রধান, নীতিনির্ধারক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চলমান সেবামূলক, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবছর এক লাখ বেকার তরুণ-তরুণীকে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা এবং দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।”
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিরা আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তারা ফ্রি মোবাইল রিপেয়ারিং ট্রেনিং সেন্টার, নারী স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ফাউন্ডেশনের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফরিদ খান জানান, দেশের যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, বেকারত্ব হ্রাস এবং টেকসই কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।
ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহম্মদ জানান, ২০২৫ সালে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ১৭৯ জন তরুণ-তরুণীকে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা এক বছরের মধ্যেই সম্মিলিতভাবে ৪২ কোটিরও বেশি টাকা আয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে ১৪টি কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হচ্ছে এবং সময়োপযোগী নতুন কোর্স চালুর কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে ফাউন্ডেশনের শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পরে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অতিথিরা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণের প্রভাব, কর্মসংস্থান মডেল ও সম্প্রসারণ কৌশল নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীলরা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং অংশগ্রহণকারীদের মতামত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও সরকারি নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা। ২০১৭ সালে শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশন শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দাওয়াহ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশজুড়ে কাজ করে যাচ্ছে।