1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষঃ
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ সুনামগঞ্জে ৫ বোতল ভারতীয় মদসহ দুইজন আটক বেগমগঞ্জে বাড়িতে ঢুকে যুবদলের সাবেক নেতাকে গুলি, আহত ১ মৌখিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শেষ হলো আজিজুল হক কলেজের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনার্স জীবন তিস্তার স্রোতে সড়ক ধসে দহগ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে ৪ হাজার মানুষ সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ আজ প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল, জানবেন যেভাবে মক্কার ঐতিহাসিক যেসব মসজিদে জড়িয়ে আছে নবীজি (সা.)-এর স্মৃতি মগবাজারে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, মোটরসাইকেল আরোহীসহ নিহত ২ ইউটাহে দাবানল নেভানোর সময় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

বিদেশি ব্র্যান্ডকে পেছনে ফেলে সুগন্ধি সাবানের বাজারে এগিয়ে দেশীয় কোম্পানি

এম আর রোমেল, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

একসময় ফা, ইম্পেরিয়াল লেদার কিংবা ডাভের মতো বিদেশি ব্র্যান্ডের সুগন্ধি সাবান ছিল অভিজাত শ্রেণির পছন্দের প্রতীক। উন্নত মান, আকর্ষণীয় মোড়ক ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে এসব ব্র্যান্ড দ্রুতই ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শহরের অভিজাত দোকান ছাড়িয়ে একসময় মফস্বল ও পাড়া-মহল্লার ছোট দোকানেও জায়গা করে নেয় বিদেশি ব্র্যান্ডের সাবান।

তখন অনেকের ধারণা ছিল, বিদেশি কোম্পানিগুলোই হয়তো বাংলাদেশের সুগন্ধি সাবানের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। বিদেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখেনি, বরং বাজার সম্প্রসারণেও এগিয়ে গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের সুগন্ধি সাবানের বাজারে দেশীয় কোম্পানিগুলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। ভোক্তার রুচি, ক্রয়ক্ষমতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত নতুন পণ্য ও ভ্যারিয়েন্ট বাজারে আনছে। উন্নত মান, বৈচিত্র্যময় সুগন্ধ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের কারণে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রতি ভোক্তাদের আস্থাও বাড়ছে।

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বাজার

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সুগন্ধি সাবানের বাজারের আকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এর বড় একটি অংশ এখন দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইউনিলিভারের লাক্স ও লাইফবয় এখনো বাজারে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোও দ্রুত তাদের বাজার সম্প্রসারণ করছে।

বর্তমানে উল্লেখযোগ্য দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কয়ার টয়লেট্রিজের মেরিল, কোহিনূর কেমিক্যালের তিব্বত ও স্যান্ডালিনা, এসিআইয়ের স্যাভলন, মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজের কিউট, কেয়া কসমেটিকসের কেয়া, অ্যারোমেটিক কসমেটিকসের অ্যারোমেটিক, লিলি কসমেটিকসের লিলি সোপ, মার্কস অ্যান্ড অ্যালিসের ক্যামেলিয়া এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের লিভানা।

খাত সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বড় ও মাঝারি মিলিয়ে দেশে কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠান সাবান উৎপাদন করছে। বাজারের মূল প্রতিযোগিতা প্রায় ১৫ থেকে ২০টি প্রতিষ্ঠিত দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে হলেও ছোট ও মাঝারি পর্যায়েও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে প্রায় ৮০টি প্রতিষ্ঠান সাবান উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

উদ্ভাবনে এগিয়ে দেশীয় ব্র্যান্ড

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতির পেছনে পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং ড. জেসমিন জামান বলেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ভোক্তার চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে মেরিল নিয়মিত নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট বাজারে আনছে।

তিনি জানান, মিল্ক সোপ, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সাবান এবং সিরাম সাবানের মতো বিভিন্ন পণ্য বাজারে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ড. জেসমিন জামানের ভাষ্য, ‘মেরিল সাবানের বিক্রি প্রতিবছর ১০ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে। বাংলাদেশের সাবানের বাজার এখনো সম্ভাবনাময় এবং মেরিল এ বাজারে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।’

বাড়ছে ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের চাহিদা

সুগন্ধি সাবান দেশের ফাস্ট মুভিং কনজ্যুমার গুডস (এফএমসিজি) খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানুষের আয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং শহুরে সংস্কৃতির বিস্তারের ফলে ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।

বিশেষ করে করোনার পর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাবান ও হ্যান্ডওয়াশের ব্যবহার বেড়েছে। বর্তমানে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বিভিন্ন ধরনের সাবান ও হ্যান্ডওয়াশের ব্যবহার বাড়ছে।

কোহিনূর কেমিক্যালের জনপ্রিয় সাবান ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে স্যান্ডালিনা, তিব্বত ও ব্যাকট্রল। প্রতিষ্ঠানটির এক পরিচালক জানান, সাবান তাদের ব্যবসার অন্যতম শক্তিশালী খাত। গত কয়েক বছরে সাবান বিক্রির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ক্রেতাদের পছন্দে পরিবর্তন

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দেশি ও বিদেশি সাবানের চাহিদায় পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া গেছে। রামপুরা এলাকার মুন্নী স্টোরের বিক্রেতা আবু হোসেন জানান, আগে ফা, ইম্পেরিয়াল লেদার ও ডাভের মতো বিদেশি ব্র্যান্ডের সাবানের চাহিদা বেশি ছিল। তবে বর্তমানে দেশীয় কোম্পানিগুলোও ভালো মানের সাবান তৈরি করছে।

তার মতে, দেশীয় সাবানের মান ভালো হওয়ার পাশাপাশি দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ক্রেতারা এখন এসব ব্র্যান্ডের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

আরেক বিক্রেতা জানান, তার দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি সুগন্ধি সাবান বিক্রি হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫টি দেশীয় ব্র্যান্ডের এবং ২০ থেকে ২৫টি বিদেশি ব্র্যান্ডের সাবান। তার মতে, দেশীয় কোম্পানিগুলো পণ্যে বৈচিত্র্য আনার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহও বেড়েছে।

সাবান খাতে বাড়ছে বিনিয়োগ

বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনায় দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও সাবান ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠানও এ বাজারে প্রবেশ করছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্স পারসোনাল কেয়ার লিমিটেড ‘লিভানা’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে সাবানের বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। বসুন্ধরা গ্রুপও টয়লেট্রিজ ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে রিমার্ক এইচবি লিমিটেড ‘লিলি বিউটি সোপ’-এর মাধ্যমে প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে।

লিলি বিউটি সোপের চিফ বিজনেস অফিসার আবির আদনান বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ায় ভোক্তারা এখন মানসম্মত পণ্যের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে সাবানসহ ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

তিনি জানান, গত দুই বছরে লিলি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের সাবান বাজারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং ভোক্তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, একসময় বিদেশি ব্র্যান্ডের আধিপত্য থাকা বাংলাদেশের সুগন্ধি সাবানের বাজারে এখন দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। পণ্যের মানোন্নয়ন, নতুন ভ্যারিয়েন্ট, সাশ্রয়ী মূল্য এবং স্থানীয় ভোক্তার চাহিদা বোঝার সক্ষমতাই দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর বাজার সম্প্রসারণের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page