
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মাহিন উদ্দিন নামে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহিন উদ্দিনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান।
তিনি জানান, মৃত্যুর আগে মাহিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলেছিলেন। ওই সময় তিনি স্বাভাবিকভাবে কথাও বলেছেন।
গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের পর সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক হতাহত হন।
পরদিন এক বিবৃতিতে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর জানায় এজিসিসি। পরে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়ানোর তথ্য দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানানো হয়।
‘দ্য মস্কো টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজিসিসি রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পটি বিশ্বের অন্যতম বড় পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে চালুর আগে সেখানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছিল।
এজিসিসির তথ্য অনুযায়ী, পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অগ্নিকাণ্ডের দুদিন পর, ২৭ আগস্ট একজন বাংলাদেশির মৃত্যুর পাশাপাশি আরেক বাংলাদেশির নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছিলেন মস্কো বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। পরে নিখোঁজ ব্যক্তিসহ আরও দুজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
নিহত জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় এবং মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায়। আর আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হুগলবাড়ীয়া এলাকায়।
দূতাবাস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জাকির হোসেন ও আলাল হোসেন রাজুর লাশের ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানে তাদের মরদেহ ঢাকায় পরিবারের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।
অন্যদিকে মস্কোর হাসপাতালে থাকা আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের মরদেহ দেশে পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ বাসায় ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন দূতাবাস কর্মকর্তা।