
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। এর অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে দোহা। একই সময়ে সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আল-আনসারি বলেন, অঞ্চলটিতে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে কাতার উদ্বিগ্ন। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে তারা কাজ করছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। দীর্ঘ সংঘাতের প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনে।
এর আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে তা স্থায়ী হয়নি। সর্বশেষও দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের শর্ত পূরণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং ওয়াশিংটনের জবাব তেহরানকে জানাবে।
ইরানের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের জব্দ থাকা সম্পদের মতো বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় চেয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনার পথ খোলার প্রস্তাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথা জানান। পরে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে কাতারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে তারা মধ্যস্থতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সংঘাতের অবসানে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো হয়নি।