
ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীসহ আশপাশের এলাকার বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলা এবং পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়াতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর তিনি ফেনীতে, তাঁর নানাবাড়ির এলাকায় এসেছেন। দেশের মানুষের জন্য এবং নানাবাড়ির এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে মুহুরী নদী খননের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা অন্যদের নসিহত করে, তাদেরও নিজেদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকানো উচিত।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে পরশুরাম ও ফুলগাজীসহ ফেনীর বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এ অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। এছাড়া ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।