
গাজা সিটির পশ্চিমে একটি বন্দরের ক্যাফেতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) হামলাটি চালানো হয় বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। আহতদের বেশিরভাগকে আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে প্রথমে ছয়জনের মরদেহ ও ১৩ জন আহতকে নেওয়া হয়। পরে আহতদের একজন মারা যান।
হামলায় নিহত একজনের মরদেহ এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। আল-জাজিরা আরবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার তীব্রতায় কয়েকজন নিহত ও আহত ব্যক্তি সাগরে ছিটকে পড়েন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আলঘুল এএফপিকে জানান, গাজা সিটির পশ্চিমে জেলেদের বন্দরের ‘সুইট অ্যান্ড বিটার’ ক্যাফেতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা শাতি এলাকায় ‘হামাসের কয়েকজন কমান্ডারকে’ লক্ষ্য করে ‘নির্ভুল বিমান হামলা’ চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তিরা গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।
তবে হামলায় নিহত শিশুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে যাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণও প্রকাশ করা হয়নি।
হামাস হামলাটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এই হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের প্রতি ইসরায়েলের অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও ইতোমধ্যে সম্মত শান্তি পরিকল্পনা মেনে চলতে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
এর এক দিন আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে যাওয়ার অনুমোদন দেন। ওই পরিকল্পনায় হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সোমবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৩ হাজার ৩৯৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির পর নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৫ জন।