
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট ও এক জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দেন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন আইসিসির প্রেসিডেন্ট জাপানি বিচারক তোমোকো আকানে এবং আদালতের জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়ে।
মার্কো রুবিও বলেন, যেসব দেশের সরকার আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করেনি, সেসব দেশের কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচারের উদ্যোগে সরাসরি যুক্ত থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার উদ্দেশ্যে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই আদালতের সদস্য নয়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আইসিসি। আদালত বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আইনের শাসনকে দুর্বল করে। বিচারিক দায়িত্ব পালনের কারণে কর্মকর্তাদের হুমকির মুখে ফেলা হলে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
আবদুলায়ে সেয়ে আইসিসির সেই প্রসিকিউশন দলের জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি, যারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছিল। তিনি আইসিসির বিচারক পদে নির্বাচনের জন্যও মনোনীত হয়েছেন।
নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মতবিরোধও আরও স্পষ্ট হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরেই আইসিসির সদর দপ্তর অবস্থিত।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানেকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
এর আগে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে আদালতের পুরোনো তদন্তকে কেন্দ্র করে কয়েকজন আইসিসি কর্মকর্তা ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হতে পারে। পাশাপাশি তারা দেশটির আর্থিক ব্যবস্থা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন।
রুবিও গত মাসে জানিয়েছিলেন, আইসিসিকে দুর্বল করতে ট্রাম্প প্রশাসন আরও পদক্ষেপ নেবে। এর অংশ হিসেবে অন্য দেশগুলোকে আদালত থেকে বেরিয়ে আসতে উৎসাহিত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথাও জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আইসিসির বিরুদ্ধে এই অভিযান তার নিজের বিরুদ্ধে নয়; বরং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ অন্যদের বিচার থেকে রক্ষা করাই এর উদ্দেশ্য।