
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে দারুণ নাটকীয় এক লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে টানা নাটকীয় ঘটনায় রং বদলেছে ম্যাচের চিত্র। গনসালো রামোসের শেষ মুহূর্তের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ক্রোয়েশিয়া সমতা ফিরিয়েছিল ঠিকই, তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়ায় সেই গোল বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পর্তুগিজরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। চতুর্থ মিনিটেই রাফায়েল লিয়াওয়ের গতিময় আক্রমণ থেকে পরপর দুটি শট নেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। কিন্তু দুবারই অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচ।
প্রথমার্ধে পর্তুগালের দখল বেশি থাকলেও গোলের দেখা মেলেনি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও তেমন কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচও নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩তম মিনিটে য়োসিপ স্তানিশিচের বাড়ানো বল বক্সের ভেতর পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার ইভান পেরিসিচ।
গোল হজমের পর আক্রমণের গতি বাড়ায় পর্তুগাল। ৬০তম মিনিটে রোনালদো বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। তবে আট মিনিট পর পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯০+৪) রাফায়েল লিয়াওয়ের বাঁ দিক থেকে বাড়ানো ক্রসে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে বল জালে পাঠান গনসালো রামোস। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
তবে নাটক তখনও শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়া পর্তুগালের জালে বল জড়িয়ে সমতা ফিরিয়েছিল। গোলের পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন লুকা মদ্রিচরা। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায় এবং ক্রোয়েশিয়ার আশা মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় ধরে রেখে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পর্তুগাল। নাটকীয় এই জয়ের পর এখন পরবর্তী পর্বের লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে রোনালদোর দল।