
জাতীয় সংসদকে দেশের মজলুম ও সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ‘মিলনমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রম যত বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকর হবে, ততই মানুষের আস্থা বাড়বে এবং দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্র। সংসদীয় কার্যপ্রণালী যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে স্পিকারের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
তিনি সম্প্রতি পাস হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত আলোচনা ও মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে জনগুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যা, ভূমিধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, এবারের বন্যায় চট্টগ্রামসহ কয়েকটি অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ড. শফিকুর রহমান বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ড্রেনের পানিতে তলিয়ে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রাজধানীকে পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানান।
উন্নয়ন বরাদ্দে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হন।
সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনায় ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহারের সংস্কৃতির সমালোচনা করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নামফলক পরিবর্তনে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়। জনগণের অর্থে নির্মিত স্থাপনায় আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।
দুর্নীতিকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি সরকারের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান বিরোধীদলীয় নেতা। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।