
রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মো. আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), যাকে চক্রটির বাংলাদেশ অংশের অন্যতম মূল সমন্বয়কারী বলে দাবি করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন— মো. আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার ৬০০টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিমকার্ড, ৬৭টি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড, ৭০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
ডিবির তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন হতো। পুলিশ জানিয়েছে, আরিফুল ইসলাম রিফাতের বিরুদ্ধে আগেও চারটি মামলা রয়েছে এবং তিনি এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বৈধ কোনো ব্যবসা বা চাকরি না থাকলেও অবৈধ আয়ের অর্থে রিফাত বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। তিনি দুটি বিএমডব্লিউ গাড়ির মালিক ছিলেন। একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তিনি আরেকটি বিএমডব্লিউ কিনেছেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে রিফাত নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতেন। যেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেখানে তিনি তিনটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়ার কক্ষে অবস্থান করতেন এবং কয়েক দিন পরপর হোটেল পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যেতেন।
ডিবির দাবি, বাংলাদেশে পরিচালিত অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপগুলোর পেমেন্ট ব্যবস্থাপনায় বিদেশি, বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করছে। এসব কোম্পানি স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেন পরিচালনা করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পেমেন্ট কোম্পানিগুলো অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে এমএফএস ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে। পরে এসব অ্যাকাউন্টে হওয়া লেনদেনের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউএসডিটিতে (USDT) রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পরিচালিত অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোতে এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ২০০টি পেমেন্ট কোম্পানি এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে, যাদের অধিকাংশই বিদেশি, বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত।
ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন, অর্থ পাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও চক্রকে শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।