
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা এলাকায় এক কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষ ওই পরিবারের বাড়িতে ভিড় করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কামরাঙ্গীরচালা এলাকার কাইয়ুম দেওয়ানের ১৭ বছর বয়সী সন্তান কেয়া (ছদ্মনাম/পূর্বের নাম) স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুল থেকে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত প্রায় এক বছর ধরে তার শরীরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে।
পরিবার জানায়, পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করার পর তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকেরা বিষয়টিকে হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানান। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হওয়ায় বর্তমানে ওই কিশোর পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন শুরু করেছেন। পারিবারিকভাবে তার নাম পরিবর্তন করে কাবির রাখা হয়েছে এবং জন্ম নিবন্ধনের তথ্যও সংশোধন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কিশোরের মা জানান, প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও ধীরে ধীরে সন্তানের শারীরিক পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিস্থিতি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধন করা হয়েছে।
ওই কিশোর বলেন, আগে তার নিয়মিত মাসিক হতো, তবে বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গেছে। শরীরে পুরুষের বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছি।”
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর কৌতূহলী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের অনেকেই বিষয়টি দেখতে ওই পরিবারের বাড়িতে ভিড় করছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের শারীরিক পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন হরমোনজনিত বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যান্য কারণ থাকতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনা নিয়ে গুজব বা ভুল ব্যাখ্যা না দিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।