
প্রধানমন্ত্রী, জেলা জজ ও চিকিৎসকের কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারণার অভিযোগে বগুড়ার আদমদীঘিতে হাফেজ রুহুল আমিন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করেছেন। অভিযোগ, তিনি পান দোকানদার জাকির হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের হাতে আটকের পর তাকে পুলিশের কাছে না দিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রাখার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী জাকির হোসেন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বাসিন্দা রুহুল আমিন গত ছয় মাস ধরে আদমদীঘির একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে আতর ও সুরমা বিক্রির আড়ালে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। এ সময় জাকির হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, জাকির হোসেনের দুই ছেলেকে লন্ডনে পাঠানো এবং জাকির দম্পতিকে হজে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নেন রুহুল আমিন।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিশ্বাস অর্জনের জন্য রুহুল আমিন নিজেই বিভিন্ন ব্যক্তির কণ্ঠস্বর নকল করে ফোন করতেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কণ্ঠস্বরসহ অন্তত ১০ জনের কণ্ঠ অনুকরণ করে তিনি জাকির হোসেনকে প্রভাবিত করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ৩০ জুন রাতে জাকির হোসেনের বাড়িতে দাওয়াতে গেলে কথোপকথনের একপর্যায়ে রুহুল আমিনের প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে মারধর করেন। এ সময় পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
রুহুল আমিন প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তিনি জানিয়েছেন, নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে তাকে একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত টাকা উদ্ধার না হওয়ায় তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
এ বিষয়ে কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ঘটনাটি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।