
দেশে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩৭ হাজার ১৭০ জন। তখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছিল ১০২ জনের। ১১ দিনের ব্যবধানে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ২৭৬ জনে। একই সময়ে মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১৪৩ জনে।
অর্থাৎ, মাত্র ১১ দিনেই নতুন করে ১৩ হাজার ১০৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর শুধু রাজধানী ঢাকায় সীমাবদ্ধ নেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টি ও এডিস মশার অনুকূল তাপমাত্রার কারণে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে পরিস্থিতি খারাপ থাকতে পারে। এডিস মশা এখন জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানেও ঢাকার বাইরে রোগীর চাপ বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। গত কয়েক দিনে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গাজীপুরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭৬৯ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ হাজার ৭৪০ জনে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারেও বাড়ছে রোগীর চাপ।
এদিকে, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট দেখা দিচ্ছে। মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আক্রান্তের দিক থেকে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা কিছুটা বেশি। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে ৬৭ জন পুরুষ এবং ৭৩ জন নারী।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী জ্বর আসার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেরিতে চিকিৎসা নেওয়া হলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে শক সিনড্রোমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ব্যক্তি ও কমিউনিটি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতিদিন বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি ফেলে দিলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলেও জানান তিনি।