বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্থলজ প্রাণী হিসেবে পরিচিত Jonathan-কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়েছে। পরে জানা যায়, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা।
দক্ষিণ আটলান্টিকের Saint Helena দ্বীপে বসবাসকারী এই সেশেলস জায়ান্ট কচ্ছপকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, জোনাথন শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছে। ওই অ্যাকাউন্টে দীর্ঘদিনের পশুচিকিৎসক Joe Hollins-এর নাম ব্যবহার করে আবেগঘন পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে তার দীর্ঘ জীবন, শান্ত স্বভাব এবং কলা খাওয়ার অভ্যাস তুলে ধরা হয়। অল্প সময়েই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।
গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও বিভ্রান্ত হয়ে খবর প্রকাশ করে। পরে তদন্তে জানা যায়, অ্যাকাউন্টটি ব্রাজিল থেকে পরিচালিত একটি ভুয়া প্রোফাইল এবং এতে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অনুদান চাওয়ার বিষয়টি যুক্ত ছিল।
প্রকৃত পশুচিকিৎসক জো হলিন্স জানান, তিনি ওই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারই করেন না এবং জোনাথন সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছে। তিনি এটিকে সরাসরি প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দেন।
এদিকে দ্বীপটির গভর্নর Nigel Phillips নিজে গিয়ে জোনাথনের অবস্থা দেখে নিশ্চিত করেন, কচ্ছপটি সুস্থ রয়েছে। পরে একটি ছবিতে তাকে গভর্নর হাউসের প্রাঙ্গণে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।
১৮৮২ সালে উপহার হিসেবে Saint Helena-তে আনা হয়েছিল জোনাথনকে। তখন থেকেই গভর্নরের বাসভবনের প্রাঙ্গণেই তার বসবাস। বয়সের ভারে এখন সে প্রায় অন্ধ এবং ঘ্রাণশক্তিও অনেকটাই কমে গেছে, তবে খাবারের প্রতি আগ্রহ এখনো রয়েছে—বিশেষ করে কলা তার প্রিয়।
স্থানীয়দের কাছে জোনাথন শুধু একটি প্রাণী নয়, বরং এক জীবন্ত ইতিহাস। তাই তার মৃত্যুর ভুয়া খবর দ্বীপজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়