ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা-এ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে সদর ইউনিয়নের সাগরদিঘির পাড় গ্রামের পূর্ব পাড়া ও পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগরদিঘির পাড় গ্রামের একটি বালুর মাঠে ধান ও খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পশ্চিম পাড়ার প্রভাবশালী ব্যক্তি বোরহান মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন কিশোরের বাকবিতণ্ডা থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে।
এর জেরে বিকেলের দিকে পূর্ব পাড়ার শিবাব মিয়া (২৩) নামে এক তরুণকে মারধর করা হয় এবং একটি দোকানে হামলার অভিযোগ ওঠে বোরহান মিয়ার লোকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, যখন দুই পক্ষের সমর্থনে পার্শ্ববর্তী মালিগাঁও ও হালুয়াপাড়ার লোকজনও অংশ নেয়। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।
সংঘর্ষে বাংলাদেশ পুলিশ-এর সরাইল থানার দুই সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষ থেমে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়