1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

রাজশাহীর দুর্গাপুরে নারী শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত, তদন্ত শুরু

হাফিজুর, রাজশাহী রিপোর্টার
  • Update Time : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে এবং কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে।

রোববার দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান কলেজটি পরিদর্শন শেষে এ নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনের সময় তিনি কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে উপস্থিত পাননি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় বিকল্প মাধ্যমে যোগাযোগ করে দ্রুত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিচালক জানান, আলিয়া খাতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের লিখিত ব্যাখ্যা এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে, যখন দাওকান্দি সরকারি কলেজে একটি তাফসির মাহফিলের আয়োজন করতে যান স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজে উপস্থিত শিক্ষক আলিয়া খাতুনের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তর্কের এক পর্যায়ে তিনি একজনকে চড় মারেন।

অন্যদিকে আলিয়া খাতুন দাবি করেছেন, তাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হলে তিনি প্রতিক্রিয়ায় ওই ব্যক্তিকে থাপ্পড় দেন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মী শাহাদত আলী কলেজে গিয়ে তার সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং একপর্যায়ে তাকে জুতা দিয়ে আঘাত করেন।

পরবর্তীতে শাহাদত আলীর ছেলে লিটন ও তার সহযোগী মাহবুব ঘটনাস্থলে এসে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর আরও কয়েকজন এসে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় এবং অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে মারধর করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ সময় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একই দিন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন সদস্যের এ কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৩ এপ্রিল পরীক্ষাকালীন সময়ে শিক্ষকদের ওপর হামলা এবং এক নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক, অধিদপ্তরের উপপরিচালককে সদস্য এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)কে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন সহিংসতার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, ঘটনাটি দেশের শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!