ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আবারও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ ফিরেছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ওমান সফর শেষে তিনি পুনরায় ইসলামাবাদে পৌঁছান, যেখানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং চলমান উত্তেজনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের সংঘাতময় প্রেক্ষাপটে তার এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, শনিবার পাকিস্তান ত্যাগের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি জানান, ইরানের ওপর চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে একটি “কার্যকর কাঠামো” তৈরির লক্ষ্যে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি।
আরাঘচির এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
অন্যদিকে, তার ইসলামাবাদ ত্যাগের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, পাকিস্তরে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফর বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
পরবর্তীতে আরাঘচি এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র আসলেই কূটনীতিতে আন্তরিক কি না, তা এখনো দেখার বিষয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ইরান, পাকিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও অবস্থান ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।