প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার যশোর সফরে গেছেন। সকালে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে রওনা হয়ে তিনি সকাল ১০টা ১০ মিনিটে যশোর বিমানবন্দর-এ পৌঁছান।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে শার্শা উপজেলা-এর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুর এলাকায় প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি স্থানীয় সুধী সমাবেশেও অংশ নেবেন।
শার্শা সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী যশোরে ফিরে আসবেন এবং যশোর মেডিকেল কলেজ-এ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পাশাপাশি তিনি ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন, যা শতবর্ষী একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
দিনের শেষভাগে, বিকেল সাড়ে তিনটায় তিনি যশোর ঈদগাহ মাঠ-এ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। এই জনসভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের ব্যাপক উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তিনি পুনরায় যশোর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে যশোর জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন স্থানে মানুষের ঢল নেমেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও বিমানবন্দর ও বিভিন্ন কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানান।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে যশোরবাসী নানা উন্নয়ন দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—যশোর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যশোর জেনারেল হাসপাতাল-এ পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু করা।
এ ছাড়া যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে রয়েছে—বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু, দর্শনা (গেদে সীমান্ত) থেকে একই রুটে দুটি আন্তনগর ট্রেন চালু এবং ঢাকা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত রুটে অন্তত একটি লোকাল ট্রেন চালুর উদ্যোগ।
রেলপথ উন্নয়নের অংশ হিসেবে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডবল লাইন চালু এবং সুবিধাজনক স্থানে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) স্থাপনের দাবিও উঠেছে। পাশাপাশি সব আন্তনগর ট্রেনে সাধারণ বগি সংযোজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এছাড়া যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, দ্রুত ইপিজেড চালু করা এবং যশোরকে পর্যটননগরী হিসেবে ঘোষণা করার দাবিও স্থানীয়দের মধ্যে জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি যশোর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, এসব দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়