ইসলামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মাস Dhu al-Hijjah মুসলিম উম্মাহর জন্য নিয়ে আসে হজ ও কোরবানির মহান শিক্ষা। পবিত্র কোরআনে এই মাসের প্রথম ১০ রাতের বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসেও এই দিনগুলোর নেক আমলকে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় অধিক প্রিয় ও ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয়।” (সহিহ বোখারি: ৯৬৯)
জিলহজ গোনাহ মাফের মাস। তাই এই সময়ে আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা ও বেশি বেশি ইসতিগফার করা গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসো।” (সুরা হুদ: ৯০)
জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। হজরত হাফসা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা, জিলহজের প্রথম ৯ দিনের রোজা, প্রতি মাসের আইয়ামে বিজের রোজা ও ফজরের সুন্নত নামাজ কখনও ছাড়তেন না। (আবু দাউদ: ২১০৬)
৯ জিলহজ বা Day of Arafah-এর রোজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“আরাফার দিনের রোজা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গোনাহের কাফফারা হয়ে যায়।” (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
যারা কোরবানি করবেন, তাদের জন্য জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটা সুন্নত। (সহিহ মুসলিম: ১৯৭৭)
এই দিনগুলোতে ‘আল্লাহু আকবার’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বেশি বেশি পাঠ করার নির্দেশ এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তারা যেন আল্লাহর নাম স্মরণ করে।” (সুরা হজ: ২৮)
ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও অন্যান্য সৎকাজে মনোযোগী হওয়া উচিত। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে। (সহিহ বোখারি: ৬৫০২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“তোমরা এই ১০ দিনে তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ বৃদ্ধি করো।” (মুসনাদে আহমাদ: ৫৪৪৬)
৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।
তাকবিরটি হলো:
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”
জিলহজের দিনগুলো দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। বিশেষ করে রোজাদারদের ইফতারের আগমুহূর্তে বেশি বেশি দোয়া করা উত্তম। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সুরা মোমিন: ৬০)
Hajj ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে একবার হজ করা ফরজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।” (সহিহ বোখারি: ১৭৭৩)
সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য Eid al-Adha-এ কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতি বহন করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“কোরবানির দিনে পশু কোরবানি করার চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই।” (জামে তিরমিজি: ১৪৯৩)
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কোরবানির গোশতের একটি অংশ আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করা মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে,
“আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (সহিহ বোখারি: ৫৯৮৪)
এই বরকতময় দিনগুলোতে পাপাচার থেকে দূরে থাকা জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সব গোনাহ ছেড়ে দাও।” (সুরা আনআম: ১২০)
দান-সদকা, অসহায়দের সহায়তা ও দ্বীনি কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ।
“তোমরা কল্যাণমূলক কাজে প্রতিযোগিতা করো।” (সুরা বাকারা: ১৪৮)
১০ জিলহজ Eid al-Adha-এর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। এটি মুসলিম ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।
ঈদের নামাজে প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত তিন তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর আগে অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতে হয়। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ সম্পন্ন করা হয়।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়