Eid al-Adha উপলক্ষে কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এটি শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। ইসলামের ইতিহাসে Ibrahim (আ.)-এর মহান ত্যাগের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে কোরবানির প্রচলন হলেও, পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদায় Adam (আ.)-এর দুই সন্তানের কোরবানির ঘটনাও উল্লেখ রয়েছে।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কোরবানির জন্য বৈধ পশু। তবে এসব পশু নির্দিষ্ট বয়সের হতে হবে এবং ত্রুটিমুক্ত হওয়া জরুরি।
রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকার Jamia Islamia Baitus Salam-এর সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী জানিয়েছেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে কিছু বিশেষ ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
যেসব পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়
ইসলামি বিধান অনুযায়ী নিচের ত্রুটিগুলো থাকলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি আদায় হবে না—
যে পশু তিন পায়ে চলে এবং একটি পা ব্যবহার করতে পারে না
অতিরিক্ত দাঁত পড়ে যাওয়ায় খাবার চিবাতে অক্ষম পশু
শিং গোড়া থেকে ভেঙে মস্তিষ্কে ক্ষতি হয়েছে এমন পশু
অতিরিক্ত দুর্বলতায় হাঁটতে অক্ষম পশু
কানের অর্ধেক বা তার বেশি কাটা পশু
একটি বা উভয় চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া পশু
লেজের অর্ধেক বা তার বেশি কাটা পশু
ভেড়া বা ছাগলের একটি মাত্র স্তন থাকলে
গরু বা মহিষের দুইটির কম কার্যকর স্তন থাকলে
ভেড়া-ছাগলের একটি স্তন শুকিয়ে গেলে
গরু-মহিষের দুটি স্তন শুকিয়ে গেলে
এমন পাগল পশু, যা খাবার গ্রহণ করে না বা চারণভূমিতে ঘাস খায় না
যেসব ত্রুটি থাকলেও কোরবানি বৈধ
আলেমদের মতে, কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও কোরবানি বৈধ হতে পারে। যেমন—
তবে স্বাস্থ্যবান ছয় মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা দেখতে এক বছরের মতো হলে তা দিয়েও কোরবানি করা জায়েজ। অন্যদিকে এক বছরের কম বয়সী ছাগল কোনো অবস্থাতেই কোরবানির উপযুক্ত নয়।
হাদিসে Abu Hurairah (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহের কাছেও না আসে।” আলেমরা বলেন, এ হাদিস কোরবানির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে।