প্রতি বছরই কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশের হাটবাজারে কিছু বিশেষ গরু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভোলার ‘জমিদার’ এবং দিনাজপুরের ‘মহারাজ’ নামের দুই বিশাল আকৃতির গরু ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
ভোলার ‘জমিদার’: দেশি খাবারে লালিত ১৬ মণ ওজনের গরু
ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে খামারি মো. আলী-এর খামারে লালিত ‘জমিদার’ এখন আলোচনার শীর্ষে। প্রায় ১৫–১৬ মণ ওজনের এই দেশীয় জাতের গরুটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে বড় করা হয়েছে।
খামারি জানান, প্রায় দুই বছর আগে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় গরুটি কেনা হয়। বর্তমানে এর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট। কাঁচা ঘাস, ভুসি, গম-ভুট্টা ভাঙা ও দানাদার খাদ্য খাইয়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে।
এবার কোরবানির হাটে ‘জমিদার’-এর দাম হাঁকা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। খামারে থাকা অন্য গরুগুলোর নাম রাখা হয়েছে বাহাদুর, বাদশা, রাজা, কালাচাঁদ ও লালচাঁদ।
দিনাজপুরের ‘মহারাজ’: ১২০০ কেজির বিশাল ফ্রিজিয়ান ষাঁড়
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খানপুর দক্ষিণ শাহবাজপুর গ্রামের খামারে লালিত আরেক আলোচিত গরু ‘মহারাজ’। ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি (প্রায় ৩০ মণ)।
গরুটির মালিক লুৎফর রহমান জানান, জন্ম থেকেই এটি অন্যান্য বাছুরের তুলনায় আলাদা ছিল। ধীরে ধীরে বড় হয়ে এটি ‘মহারাজ’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে এর বাজারদর প্রায় ২০ লাখ টাকা ধরা হচ্ছে।
প্রতিদিন ৮–১০ ধরনের খাবার, যেমন কলা, আপেল, মালটা, ঘাস ও খড় খাওয়ানো হয় এই গরুটিকে। এতে দৈনিক প্রায় ২ হাজার টাকা ব্যয় হয় বলে জানিয়েছেন মালিক। পাঁচ বছরে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।
খামারির পরিবার জানিয়েছে, মহারাজ তাদের কাছে শুধু গরু নয়, পরিবারের একজন সদস্যের মতোই হয়ে উঠেছে।
কোরবানির হাটে বাড়ছে আগ্রহ
দুই অঞ্চলের এই দুই বিশাল গরুকে দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়রা ভিড় করছেন। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ ধরনের বড় ও ব্যতিক্রমী গরুগুলোকে ঘিরে খামারিদের মধ্যে বাড়ছে বাণিজ্যিক আগ্রহও।