মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে আসা নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে শুরু থেকেই তিনি স্পষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমান প্রস্তাবে পর্যাপ্ত দায়বদ্ধতার প্রতিফলন নেই। প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে তেহরানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ইঙ্গিত দেন, কেবলমাত্র একটি প্রস্তাব দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে Donald Trump বলেন, তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করেন না। তার ভাষায়, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান বিশ্বজুড়ে যে ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তার তুলনায় এখনো তারা পর্যাপ্ত মূল্য পরিশোধ করেনি। এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে তেহরানের প্রস্তাব এখনো বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগেও ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছিলেন, তেহরান যে শর্তগুলো প্রস্তাব করছে, তা তার কাছে সন্তোষজনক নয়। ফলে নতুন প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন Donald Trump। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার সম্ভাবনা নাকচ করছে না। যদিও সম্ভাব্য হামলার নির্দিষ্ট কারণ বা সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে তার বক্তব্যে স্পষ্ট সতর্কবার্তা রয়েছে।
তিনি বলেন, যদি ইরান পুনরায় কোনো “অসদাচরণ” করে বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে। এই মন্তব্য বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিরও ইঙ্গিত বহন করে।
বর্তমান সংকটের সূত্রপাত চলতি বছরের শুরুর দিকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে টানা প্রায় ৪০ দিন ধরে সংঘাত চলে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতির দিকে যায় এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে Pakistan-এর মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরে সেই সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং নতুন প্রস্তাব ঘিরে অনিশ্চয়তা আবারও সেই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মাধ্যমে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠায় Iran। প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং সংঘাত নিরসনের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, Donald Trump-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ হতে পারে। কঠোর অবস্থান প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি ইরানকে আরও ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে ওয়াশিংটন তার শক্ত অবস্থানও তুলে ধরছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কঠোর অবস্থান সংকট নিরসনের পথকে জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়