1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন

দক্ষিণ লেবাননে নতুন কৌশল, ফাইবার-অপটিক ড্রোনে হামলা বাড়াচ্ছে হিজবুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah। সাম্প্রতিক সময়ে গোষ্ঠীটি অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সেনা ও ট্যাংক বহরের বিরুদ্ধে ছোট আকারের ফাইবার-অপটিক নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে Al Jazeera

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি করা সম্ভব হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলোর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে রাডার বা প্রচলিত ইলেকট্রনিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলো সনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

ফাইবার-অপটিক ড্রোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। সাধারণ ড্রোন যেখানে রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, সেখানে এই ড্রোনগুলো অপারেটরের সঙ্গে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফাইবার-অপটিক তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। ফলে রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এগুলোকে মাঝপথে অকার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারের মাধ্যমে সংকেত আদান-প্রদান হওয়ায় এসব ড্রোন ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপ থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকে। এর ফলে অপারেটর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আরও নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। চলন্ত ট্যাংক, সাঁজোয়া যান বা সীমান্তে অবস্থানরত সেনা লক্ষ্য করে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই ধরনের ড্রোন থেকে সরাসরি উচ্চমানের ভিডিও ফিড পাওয়া যায়। এতে অপারেটর তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং আঘাতের নির্ভুলতা বাড়ে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চপ্রযুক্তির জটিল অবকাঠামো ছাড়াই এ ধরনের ড্রোন তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে এটি কার্যকর একটি কৌশলগত অস্ত্র হয়ে উঠছে।

Hezbollah-এর এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বোঝা যাচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কথা মাথায় রেখে তারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে আধুনিক করছে। যদিও ফাইবার-অপটিক তার ব্যবহারের কারণে দূরত্বের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও দক্ষিণ লেবাননের পাহাড়ি ও জটিল ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলার ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এই ড্রোন এখন বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাধারণত রেডিও-নিয়ন্ত্রিত বা বড় আকারের ড্রোন প্রতিহত করার জন্য বেশি উপযোগী। কিন্তু ছোট আকার, কম উচ্চতায় চলাচল এবং জ্যামিং-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে ফাইবার-অপটিক ড্রোন মোকাবিলা করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের লড়াইয়ে এসব ড্রোনের আঘাতে ইসরায়েলি বাহিনীর কিছু সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও বিশ্লেষকদের মতে এটি সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সীমান্ত সংঘাতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে যুদ্ধের কৌশল বদলে দিতে পারে। দক্ষিণ লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় উভয় পক্ষই এখন প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। এর ফলে সংঘাতের চরিত্র আরও দ্রুত, নিখুঁত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে।

সূত্র: Al Jazeera

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!