
বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ যেকোনো সময় নষ্ট বা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ফ্রিজের ভেতর ঠিকমতো ঠান্ডা না হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে টেকনিশিয়ান ডাকতে না গিয়ে আগে ঘরে বসেই কিছু মৌলিক বিষয় পরীক্ষা করে দেখা যায়।
ফ্রিজে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে কিনা প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে। যদি ফ্রিজ চালু না হয় বা আলো না জ্বলে, তবে সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করেছে কিনা দেখুন। সমস্যা না থাকলে ফ্রিজের প্লাগ অন্য একটি কার্যকর সকেটে লাগিয়ে পরীক্ষা করুন। অন্য সকেটেও কাজ না করলে বুঝতে হবে সমস্যা ফ্রিজের ভেতরেই।
ফ্রিজের টেম্পারেচার রেগুলেটর ভুলভাবে সেট হয়ে গেলে কুলিং কমে যেতে পারে। সাধারণভাবে ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখা উচিত। ভুল সেটিং থাকলে তা ঠিক করে নিন।
ফ্রিজের দরজার রাবার ঠিকমতো সিল না হলে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায়। এটি পরীক্ষা করতে ‘পেপার টেস্ট’ করা যায়—দরজার ফাঁকে কাগজ রেখে দরজা বন্ধ করে টান দিলে সহজে বের হলে গ্যাসকেট দুর্বল বলে ধরে নেওয়া হয়।
ফ্রিজের ভেতরের এয়ার ভেন্ট ব্লক হয়ে গেলে ঠান্ডা বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। পাত্র বা খাবারের জিনিস দিয়ে ভেন্ট ঢেকে না রাখাই ভালো।
ফ্রিজে অতিরিক্ত জিনিস গাদাগাদি করে রাখলে বাতাস চলাচল বাধা পায়। এতে কুলিং কমে যায়। তাই পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখা জরুরি।
ফ্রিজের পেছনের কয়েলে ধুলো জমে গেলে কুলিং কমে যায়। ৩–৬ মাস পরপর নরম ব্রাশ বা কাপড় দিয়ে এটি পরিষ্কার করা উচিত।
ফ্রিজারের ভেতর বরফ জমে গেলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। সময়মতো ডিফ্রস্ট না করলে ফ্রিজ ঠিকভাবে ঠান্ডা হয় না।
এই ফ্যানটি ঠান্ডা বাতাস ছড়িয়ে দেয়। এটি নষ্ট হলে পুরো ফ্রিজে কুলিং বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে এটি পরীক্ষা বা মেরামত সাধারণত টেকনিশিয়ানের কাজ।
প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও সমস্যা সমাধান না হলে নিজেরা জটিল বৈদ্যুতিক কাজ না করে অবশ্যই অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া উচিত, কারণ এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
ফ্রিজের নিয়মিত যত্ন নিলে অনেক সময় বড় ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব হয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচও কমে যায়।