
দুই বছরেরও বেশি সময় পর আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে এক বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। এ সময় চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করে সূর্যের আলো সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেবে, ফলে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে দিনের বেলাতেও সাময়িক অন্ধকার নেমে আসবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে আড়াল করে দেয় এবং তার ছায়া পৃথিবীর নির্দিষ্ট অংশে পড়ে।
এবারের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন এবং উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে। এসব এলাকায় ‘টোটালিটি’ পর্যায়ে সূর্য সম্পূর্ণভাবে ঢেকে যাবে, ফলে আকাশ অল্প সময়ের জন্য অন্ধকার হয়ে উঠবে।
ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে সূর্যের একটি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে সর্বশেষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালে। স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে এমন ঘটনা সর্বশেষ দেখা যায় ১৯০৫ সালে।
গ্রিনল্যান্ডে দর্শকরা দুই মিনিটেরও বেশি সময় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে উত্তর স্পেনে এ সময় মাত্র প্রায় ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে।
নাসার হিসাব অনুযায়ী, পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হবে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট। এটি দক্ষিণ স্পেন, উত্তর আফ্রিকা, সৌদি আরব ও ইয়েমেন থেকে দেখা যাবে।
বিশেষ সুরক্ষা ছাড়া কখনোই সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। শুধুমাত্র পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময়, যখন সূর্য সম্পূর্ণভাবে আড়াল হয়ে যায়, তখন সাময়িকভাবে খালি চোখে দেখা গেলেও সতর্কতা জরুরি।
সূর্য পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গ্রহণ-চশমা বা সোলার ভিউয়ার ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস কখনোই গ্রহণ-চশমার বিকল্প নয়। ক্ষতিগ্রস্ত বা ছেঁড়া চশমাও ব্যবহার করা বিপজ্জনক।
নাসা আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্রহণ-চশমা পরে টেলিস্কোপ, দূরবীন বা ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সূর্যগ্রহণ বিজ্ঞানীদের জন্য সূর্যের বাইরের স্তর বা করোনা পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। এবারের গ্রহণে গবেষকরা উচ্চ-উড্ডয়নক্ষম বেলুন ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
তাদের লক্ষ্য ১৯১৯ সালের ঐতিহাসিক সূর্যগ্রহণ পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি করা, যার মাধ্যমে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের প্রমাণ মিলেছিল।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার এক বিজ্ঞানী বলেন, পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এমন একটি বিরল ঘটনা, যা মানুষকে মহাবিশ্বের প্রতি বিস্ময় ও অনুসন্ধিৎসায় একত্রিত করে।
সূত্র: সিএনএন