1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকের আগে উত্তেজনা: হিজবুল্লাহ বলছে ‘ফলহীন’ আলোচনা, আত্মসমর্পণের প্রশ্নই নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে লেবানন ইস্যুতে। যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসরায়েল ও মার্কিন কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে, ঠিক সেই সময় আলোচনাকে ‘ফলহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর একজন শীর্ষ নেতা কাসেম। তার এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বহুল প্রত্যাশিত এই বৈঠক, যেখানে লেবাননের প্রতিনিধিরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে নেতিবাচক বার্তা আসায় এর ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরান-সম্পর্কিত একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাসেম স্পষ্টভাবে বলেন, এই ধরনের আলোচনা বাস্তবে কোনো ফল বয়ে আনবে না। তার মতে, ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য শুধু সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং ‘পুরো লেবানন’কে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই অবস্থায় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করেন।

কাসেম আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবানন সরকারের উচিত তাদের জাতীয় সেনাবাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে নামানো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশকে রক্ষা করতে হলে শুধু রাজনৈতিক উদ্যোগ নয়, সামরিক প্রস্তুতিও জরুরি। এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, হিজবুল্লাহ এখনও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে রাজি নয়।

এরই মধ্যে গত মার্চে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ শুরুর পর লেবানন সরকার একটি বড় সিদ্ধান্ত নেয়। তারা ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তকে দেশটির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপকভাবে আলোচিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড লেবাননকে এমন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে, যার পরিণতি দেশটির জন্য ভয়াবহ হতে পারে। তার মতে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের স্বতন্ত্র সামরিক শক্তির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।

তবে সরকারের এই অবস্থানের বিপরীতে হিজবুল্লাহ নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বরং সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, তারা কোনোভাবেই ‘শান্ত’ হবে না এবং আত্মসমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না। এই ঘোষণার মাধ্যমে তারা মূলত জানিয়ে দিয়েছে যে, সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও হিজবুল্লাহর এমন অবস্থান আলোচনার সম্ভাব্য সাফল্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। একদিকে লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে সংঘাত নিরসনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে শক্তিশালী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সেই প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করছে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই উত্তেজনা নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা, তার সঙ্গে ইরানের প্রভাব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি একটি বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

এখন সবার দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের দিকে। আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হবে, নাকি পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হবে—তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র: বিবিসি

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!