পশ্চিম আফ্রিকার দেশ Nigeria-এর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির বোর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবো অঞ্চলের একটি গ্রাম্য বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
রোববার (১২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার রাতে জিল্লি নামের একটি বাজারে বিমান হামলা চালানো হয়, যেখানে বহু সাধারণ মানুষ অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও এক কাউন্সিলরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই হামলায় প্রায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন।
তবে দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা জঙ্গিগোষ্ঠী Boko Haram-এর সদস্যদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি ছিল এবং তাদের টার্গেট করেই হামলা পরিচালনা করা হয়। তবে বাজারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বা হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বিমানবাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যে এলাকায় হামলাটি হয়েছে সেখানে মিলিশিয়া ও জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। প্রায়ই সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
ইয়োবো অঞ্চলের গেইদাম বিভাগের ফুচিমেরাম এলাকার প্রধান ও কাউন্সিলর লাওয়ান জান্না নুর জানান, আহতদের দ্রুত ইয়োবো ও বোর্নোর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে “চরম বিপর্যয়কর” বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “জিল্লি বাজারে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ। বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, জঙ্গি দমন অভিযানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নতুন নয়, তবে এ ধরনের বড় আকারের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আস্থাও কমে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, নাইজেরিয়ার এই হামলা দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এখন পর্যন্ত নিহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত না হলেও এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহারযোগ্য নহে