রাজধানীর অন্যতম প্রভাবশালী আইনজীবী সংগঠন ঢাকা আইনজীবী সমিতি-এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের কার্যকরী কমিটি গঠনে বহুল আলোচিত নির্বাচন শুরু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। একই সময়সূচিতে বৃহস্পতিবারও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ২১ হাজারের বেশি আইনজীবী, যা সমিতির ইতিহাসে অন্যতম বড় ভোটার উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটগ্রহণের সময় মাঝখানে এক ঘণ্টার বিরতি রাখা হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভোট শেষে শুক্রবার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সদস্য পদে ইভিএমে ভোট গণনা হলেও সম্পাদকীয় পদগুলোর ভোট গণনা হবে হাতে।
এবারের নির্বাচনে মোট ২৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। মূল লড়াই গড়ে উঠেছে দুটি বড় প্যানেলের মধ্যে। একদিকে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘নীল প্যানেল’, অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’। উভয় প্যানেল থেকেই পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। নীল প্যানেল থেকে এই দুই পদে লড়ছেন মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ আবুল কালাম খান। অন্যদিকে সবুজ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এস এম কামাল উদ্দিন ও মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক।
নির্বাচন ঘিরে আইনজীবী মহলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেলেও এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল বিজয়ী হলেও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সমিতির কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। পরে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যার অধীনেই বর্তমান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও জোরদার করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এই নির্বাচন শুধু একটি পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণই নয়, বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ফলে ফলাফল নিয়ে আইনজীবী সমাজসহ রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়