যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল-কে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস এবং সহকর্মীদের মাঝে মদ বিতরণের অভিযোগ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্যাটেলের জীবনযাপন ও আচরণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদনে তাঁর ব্যক্তিগত অভ্যাস ও সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাশ প্যাটেল শুধু নিজে মদ্যপানই করেন না, বরং এফবিআই কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত দামি ব্র্যান্ডের মদের বোতল উপহার দেন। এসব বোতলে তাঁর নাম খোদাই করা থাকে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইতালির মিলানে অলিম্পিকসংক্রান্ত সফরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিশেষ বিমানে করে বিপুল পরিমাণ মদ পরিবহন করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে এফবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, কর্মকর্তাদের মধ্যে উপহার বিনিময়ের সংস্কৃতি নতুন নয় এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত। তবে সংস্থাটির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
তাদের মতে, এফবিআই বরাবরই মদ্যপান বিষয়ে কঠোর অবস্থান অনুসরণ করে এসেছে। তাই মদ বিতরণকে “পুরোনো ঐতিহ্য” হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টি তাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি একটি সাইবার হামলার ঘটনাও এই বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি হ্যাকাররা ক্যাশ প্যাটেল-এর ব্যক্তিগত ই-মেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে তাঁকে মদ্যপ অবস্থায় নাচতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপন তথ্য সুরক্ষার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা বিদেশি শক্তির জন্য ব্ল্যাকমেইলের সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়