
নেপালের গোরখা জেলার চুম্নুবরি গ্রামে আকস্মিক বন্যায় ৩৫টিরও বেশি বাড়িঘর ও সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। বুধি গণ্ডকী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার অনেক ওপরে পৌঁছালে রোববার (১১ অক্টোবর) এ বন্যার সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, নদীর পানি কালো ও ধূসর রং ধারণ করেছে। পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও আবর্জনা প্রবাহিত হচ্ছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৬৬ মিটার। মাত্র দুই ঘণ্টা ১০ মিনিটের মধ্যে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৪৩ মিটারে পৌঁছায়। নদীটির বিপৎসীমা ৫ মিটার হওয়ায় পানির উচ্চতা বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যায়।
সংস্থাটি আরও জানায়, সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১০ মিনিটে পানির স্তর দুই মিটারেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। পানির এমন আকস্মিক উচ্চতা বৃদ্ধিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয় এবং ঘরবাড়ি, সেতু ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এনডিআরআরএমএ রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সেতুসহ পানির স্তর পরিমাপের কেন্দ্রটি ভেসে যাওয়ায় পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
সংস্থাটির প্রাথমিক ধারণা, বুধি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরে সেই বাধা ভেঙে যাওয়ার ফলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে বন্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত কারিগরি বিশ্লেষণ চলছে।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য আকাশ ও স্থলপথে নেপালি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার এবং নদীর তীর ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এনডিটিভি