
গৃহকর্মী প্রীতি উড়ানের ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঘটনার দুই বছর পার হলেও এখনো বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে তদন্ত শেষে পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৩১ মার্চ সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ১২ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। বিষয়টি শনিবার (৬ জুন) নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের গোয়েন্দা বিভাগের এসআই এস এম মাহমুদ রেজা মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে দ্য ডেইলি স্টারের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক এবং তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গৃহকর্মী প্রীতি উড়ান (১৫) প্রায় দুই বছর ধরে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের অষ্টম তলার ফ্ল্যাটে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই ফ্ল্যাটের ড্রয়িং স্পেসে জানালায় নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় তিনি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও একই বাসায় আরেক গৃহকর্মী জানালা থেকে পড়ে আহত হয়েছিলেন। এরপরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ, ডিএনএ ও ভিসেরা রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেন। এতে অরক্ষিত জানালাকেই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চতা থেকে পড়ে গুরুতর আঘাতজনিত শকেই প্রীতি উড়ানের মৃত্যু হয়েছে।
অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির ৩০৪এ (অবহেলাজনিত মৃত্যু) ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষী রাখা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদ রেজার সুপারিশের সঙ্গে একমত হয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি, তেজগাঁও বিভাগ) অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের অনুমোদন দেন।