
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লাল গালিচা সংবর্ধনা জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রায় গ্রেট হলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান লি কিয়াং।
এ সময় অভিবাদন মঞ্চে দুই প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র সালাম জানায় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল। বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মান জানিয়ে তোপধ্বনিও দেওয়া হয়। পরে দুই নেতা সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার ও প্যারেড পরিদর্শন করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব শেষে লি কিয়াং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান।
এরপর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’ ভবন এবং এর আশপাশের সড়ক ও চত্বর বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। চীনের সর্বোচ্চ আইনসভা ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস’-এর অধিবেশন এবং স্থায়ী কার্যালয় এই ভবনেই অবস্থিত।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর সেটিই ছিল তার প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেন। সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে বুধবার বিকেলে হাই-স্পিড ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। তবে ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি চীন সফর করেছিলেন এবং সে সময়ও গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনায় অংশ নিয়েছিলেন।