
বলিউডে অভিষেকেই দর্শকের নজর কাড়েন অভিনেত্রী অরুণা শিল্ডস। ২০১০ সালে বিবেক ওবেরয়ের বিপরীতে ‘প্রিন্স’ সিনেমায় অভিনয় করে রাতারাতি পরিচিতি পান তিনি। এরপর বিদেশি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেও প্রশংসা কুড়ান। তবে যখন তার অভিনয়জীবন আরও এগিয়ে যাওয়ার কথা, ঠিক তখনই হঠাৎ চলচ্চিত্রজগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে অভিনয় নয়, আধ্যাত্মিকতা ও মানসিক সুস্থতা নিয়েই কাজ করছেন তিনি।
অরুণার পুরো নাম অরুণা লাক্কুর নাগাপ্পা শ্রীনিবাস মূর্তি। তার বাবা ভারতীয় এবং মা ব্রিটিশ। বাবা প্রাচীন বৈদিক ঋষি মাণ্ডব্যের বংশধর বলে পরিচিত। অরুণার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গে একটি প্রাচীন ‘সর্প সমাজ’-এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ সর্বজনস্বীকৃত নয়।
ব্রিটেনেই বেড়ে ওঠা অরুণা সেন্ট্রাল সেন্ট মার্টিন্স থেকে স্নাতক এবং গিল্ডহল স্কুল অব মিউজিক অ্যান্ড ড্রামা থেকে অভিনয়ে প্রশিক্ষণ নেন। তিনি একজন দক্ষ জিমন্যাস্ট এবং মার্শাল আর্টেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অভিনয়ের শুরুটা হয় ব্রিটিশ থিয়েটারে, সেখান থেকেই বলিউডে সুযোগ পান।
২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিন্স’ সিনেমায় বিবেক ওবেরয়ের বিপরীতে অভিনয় করেন অরুণা। সিনেমাটির বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বাইক ও অ্যাকশন দৃশ্যে তিনি নিজেই স্টান্ট করেছিলেন। বিশেষ করে ‘তেরে লিয়ে’ গানে তার উপস্থিতি দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এরপর ‘মিস্টার সিং/মিসেস মেহতা’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। একই বছর ফরাসি ভাষার ‘Ao, the Last Hunter’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তাকে একটি প্রাগৈতিহাসিক ভাষাও শিখতে হয়েছিল। এ সিনেমায় তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা পায়। পরে তেলুগু চলচ্চিত্র ‘ধাদা’-র একটি আইটেম গানে পারফর্ম করেন তিনি।
ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাময় সময়ে হঠাৎ অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে অরুণা বলেছিলেন, ‘ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় ইন্ডাস্ট্রি থেকে অদৃশ্য হয়ে যাই। তখন আমার জীবন বেশ বিভ্রান্তিকর ছিল। কখনও মনে হতো অভিনয় চালিয়ে যাই, আবার কখনও মনে হতো থেমে যাই। শেষ পর্যন্ত আমি মনের কথাই শুনেছি এবং অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
অভিনয় ছেড়ে তিনি দীর্ঘ সময় ট্রান্সসেন্ডেন্টাল মেডিটেশন চর্চা করেন। পরে সাইকোথেরাপিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০১৫ সালে আধ্যাত্মিকতা ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেল চালু করেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি ক্লিনিক পরিচালনা করছেন অরুণা। সেখানে তিনি হিপনো-সাইকোথেরাপিস্ট ও মেন্টর হিসেবে কাজ করেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অবসাদ এবং আকস্মিক খ্যাতির চাপ সামলাতে হিমশিম খাওয়া মানুষের মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে সহায়তা করেন তিনি।
অরুণার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে সাপ। তার মতে, সাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শান্ত স্বভাবের প্রাণী, যার সংস্পর্শ মানুষকে মানসিকভাবে শান্ত হতে এবং নিজের ভেতরের শক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারে। তিনি নিজের পোষা সাপগুলোকে ‘হিলিং পার্টনার’ বা নিরাময়ী সঙ্গী হিসেবে দেখেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাপের সঙ্গে তোলা নানা ছবি ও ভিডিও নিয়মিত প্রকাশ পায়।
২০২৩ সালে আবারও অভিনয়ে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন অরুণা শিল্ডস। তবে ২০১২ সালের পর থেকে তাকে আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি। বর্তমানে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরে থেকে আধ্যাত্মিক চর্চা, ধ্যান এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে ঘিরেই নিজের জীবন গড়ে তুলেছেন।