
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা মূল্যের ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় মো. মামুনুর রশীদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে উপজেলার হাটখোলা বিওপি সংলগ্ন একটি ধানক্ষেত থেকে স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়। আটক মামুনুর রশীদ উপজেলার রতনপুর গ্রামের মো. জালাল উদ্দিনের ছেলে। বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারীর নেতৃত্বে ব্যাটালিয়ন সদর ও হাটখোলা বিওপির যৌথ টহল দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় সকাল ৯টার দিকে ধানক্ষেতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে। আগে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে তার বর্ণনা মিলে যাওয়ায় বিজিবি সদস্যরা তাকে থামার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বর্ণের বিষয়ে অস্বীকার করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ধানক্ষেতের কাদার মধ্যে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় স্বর্ণের বার লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ২২ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বারের মোট ওজন ১ কেজি ১৮৫ গ্রাম (প্রায় ১০১ ভরি ৯ আনা ২ রতি)। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ২৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।
এ ছাড়া আটক ব্যক্তির কাছ থেকে চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও দুটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা এবং চোরাচালান দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।