
আন্তর্জাতিক ফুটবলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একদল আইনপ্রণেতা। বিশ্বকাপে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। ইউরোপীয় দেশগুলোর এখনই এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার সময় এসেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
আইনপ্রণেতাদের মতে, সাম্প্রতিক ‘বালোগান’ মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও স্বাধীনভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।
বিতর্কের সূত্রপাত গত সপ্তাহে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার একটি ম্যাচে। ওই ম্যাচে বালোগান সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন এবং এটিকে ‘অন্যায়’ বলে মন্তব্য করেন।
পরবর্তীতে ফিফা বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ায় বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। এই সিদ্ধান্তের পর ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করাকে ‘একটি বড় অন্যায়ের অবসান’ বলে উল্লেখ করে তাকে ধন্যবাদ জানান।
ঘটনার পর ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও বিষয়টির সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচে রেফারিং, ফিফার সিদ্ধান্ত এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, এসব অভিযোগের পাশাপাশি সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব, পৃষ্ঠপোষকতার বিষয় এবং ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও তাদের পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগ, তদন্তের দাবি এবং বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত অবস্থানের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ফিফার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা স্বাধীন তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।