
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন ধাপে প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান।
বুধবার (৯ জুলাই) ন্যাটোর ৩৬তম শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে এরদোয়ান বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে তুরস্কের পুনরায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
এরদোয়ান বলেন, “আশা করি, বিশ্ববাসী এবার দেখবে যে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।” তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে তুরস্কের ওপর আরোপিত প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত অধিকাংশ বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি প্রতিরক্ষা শিল্প, নৌবাহিনীর প্ল্যাটফর্ম এবং যৌথ উৎপাদন কর্মসূচিতেও সম্প্রসারিত হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা জাহাজ নির্মাণসহ যৌথ প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছি।” এই সহযোগিতার আওতায় ফ্রিগেট, সাবমেরিন এবং ছোট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এরদোয়ান আরও জানান, তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কান’ যুদ্ধবিমানের জন্য এফ১১০ ইঞ্জিন সরবরাহের বিষয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ন্যাটো সম্মেলনের মূল্যায়নে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, এই আয়োজন আরও বেশি ইউরোপীয় দায়িত্বশীলতা, উন্নত সামরিক সক্ষমতা এবং ন্যায্য অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের পথ তৈরি করেছে।
নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কথা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, প্রতিরক্ষা ব্যয়, সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নে তুরস্ক ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, তুরস্ক ন্যাটোর অল্প কয়েকটি দেশের একটি, যারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, যুদ্ধজাহাজ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও উন্নয়ন করতে সক্ষম।
এ ছাড়া ন্যাটোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ন্যায্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে আঙ্কারা আরও বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলেও জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড