
রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংক—অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ৩১ মে পর্যন্ত সিআইবি ডেটাবেজে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি, ভাস্কর্য, বেদি, ডিজিটাল টাইম কাউন্টার ও অন্যান্য সরকারি উদ্যোগে মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি বলেন, ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এ ব্যয় করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা)। এছাড়া রেলপথ, মন্ত্রিপরিষদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, স্বরাষ্ট্র, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা, সড়ক পরিবহন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে।
তবে এ ব্যয়ের নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের হিসাব সরকার পর্যায়ক্রমে যাচাই করছে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা।
এর মধ্যে—
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে।
এর মধ্যে—
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী (মনি)-এর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন বিভিন্ন কাস্টমস হাউসে আমদানি পণ্যের বিপরীতে বকেয়া শুল্কের পরিমাণ ২৫ হাজার ৫০৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
জামায়াতের সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
তিনি জানান, বেক্সিমকোর শেয়ার লেনদেনে কারসাজির ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪২৮ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবিজি লিমিটেডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে শেয়ার অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, তামহা সিকিউরিটিজ, বাংকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও মশিউর সিকিউরিটিজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেডিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের আইনি ব্যবস্থা চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, “দেশের অর্থ লুট করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।”
জামায়াতের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
এই তহবিল থেকে—
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় সরকার ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের হয়ে ব্যাংকের ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে।