
৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার পদের বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সুপারিশ করেছে ১ হাজার ৩২০ জনকে। ফলে প্রায় ৬২ শতাংশ পদই শূন্য থেকে গেছে।
বিসিএস পরীক্ষার্থীদের একটি অংশের দাবি, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় তুলনামূলক কম সংখ্যক প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করায় অনেকেই প্রথম ধাপেই বাদ পড়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও চারবারের বিসিএস পরীক্ষার্থী ওসমান শুভ বলেন, এবার প্রিলিমিনারিতে আগের তুলনায় অনেক কম প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলে অনেক চাকরিপ্রার্থীর বিসিএসে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রাথমিক ধাপেই শেষ হয়ে গেছে।
৪০তম থেকে ৪৭তম বিসিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের অধিকাংশ বিসিএসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১৫ থেকে ২০ হাজার পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও ৪৭তম বিসিএসে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১০ হাজারে নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, বিশেষ করে টেকনিক্যাল ক্যাডারগুলোতে পর্যাপ্ত যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক প্রার্থী প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার ধাপেই বাদ পড়ে যাচ্ছেন, যার ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
পিএসসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলা শিক্ষা ক্যাডারের ১৩২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ১৫ হাজার ১৬৮ জন। এর মধ্যে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন মাত্র ১৭৬ জন, যা মোট আবেদনকারীর প্রায় ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯ জন এবং শেষ পর্যন্ত সুপারিশ পান মাত্র ১০ জন।
পিএসসি চেয়ারম্যান জানান, টেকনিক্যাল ক্যাডারে জনবল সংকট মোকাবিলায় আলাদা নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।