
টানা বৃষ্টিতে রাজধানীতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পেছনে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, খাল-ড্রেন দখল ও ভরাট এবং ড্রেনে আবর্জনা জমে থাকার বিষয়গুলোকে দায়ী করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার জানান, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ড্রেনের পানি স্বাভাবিকভাবে নদীতে নামতে পারেনি। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের খাল দখল, ভরাট এবং ড্রেনে জমে থাকা বালু ও আবর্জনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচালিত অভিযানে নিউ মার্কেট এলাকার ড্রেন থেকে লেপ, তোশক, কাঁথা, বালিশ, বড় বড় বোল্ডার, ইট, কংক্রিটসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণবর্জ্য ও আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে। এসব বর্জ্যের কারণে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।
ডিএসসিসির এ কর্মকর্তা বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে এবং ড্রেন, নালা বা খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই নিজের বাসা পরিষ্কার রাখলেও বাইরে রাস্তাঘাটে অবাধে বর্জ্য ফেলেন। এ অভ্যাস পরিবর্তন হলে জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।
নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে মতিঝিলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ছয় মাসের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে ডিএসসিসি। প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ডটিকে ২০টি সেক্টরে ভাগ করে ২০ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিটি এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
মাহবুবুর রহমান তালুকদার জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়নকারী বাড়িকে ‘গুড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। আর যারা নির্দেশনা অনুসরণ করবেন না, তাদের ‘ব্যাড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ মার্কিং দেওয়া হবে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, রাজধানীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বন্যা নয়, বরং জলাবদ্ধতা। তিনি বলেন, অতীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও পরিকল্পনার ঘাটতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমান সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ঢাকায় মোট ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভারী বৃষ্টির পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়।