
দুই ওপেনারের দুর্দান্ত সূচনা, মাঝপথে ব্যাটিং ধস, এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও ইয়াসির আলীর ঝড়ো জুটি। সেই লড়াকু সংগ্রহকে দারুণ বোলিংয়ে রক্ষা করে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে ১-১ সমতায় ফিরেছে সফরকারীরা।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। তবে সেই অবস্থান থেকে হঠাৎই ছন্দ হারায় দল। মাত্র ১৩ বলের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০০ রানের সম্ভাবনাকে কঠিন করে তোলে টাইগাররা।
কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেন ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শেষ ১৯ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের বিধ্বংসী জুটিতে ইনিংসে নতুন গতি আনেন তারা। ইয়াসির খেলেন কার্যকর ক্যামিও ইনিংস, আর শেষ ওভারে টানা চার বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সাইফউদ্দিন। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম তিন ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা।
এরপর অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও মিল্টন সামুবার জুটি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও মাঝের ওভারগুলোতে রিশাদ হোসেনের নিয়ন্ত্রিত লেগ স্পিনে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের রান তাড়ার গতি থামিয়ে দেন তিনি।
শেষদিকে রায়ান বার্ল ১৯ বলে ২৯ এবং ব্র্যাড ইভান্স ১৪ বলে ২৫ রান করে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও ব্যবধান আর কমাতে পারেননি। ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতে ১৫২ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।
৪ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন রিশাদ হোসেন। তবে শেষ ওভারের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের হাতে।
তবে এই জয়ের মাঝেও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে এসেছে পেসার নাহিদ রানার চোট। ম্যাচ চলাকালে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর তিনি আর খেলায় ফিরতে পারেননি।
প্রথম ম্যাচে হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরানোয় শেষ ম্যাচটি এখন অলিখিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে। আগামী রোববারের নির্ধারণী লড়াইয়ে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে।