
লালমনিরহাট সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পরিবর্তে নৈশপ্রহরী দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করায় এক অভিভাবকের শিশুসন্তানের নাম হাজিরা খাতা থেকে মুছে দিয়ে তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের খোড়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০৬ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বাদশা আলম। পরে তিনি বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনই নারী। অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষকেরা প্রায়ই নিজেদের শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। সন্তানদের দেখাশোনায় ব্যস্ত থাকার কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের চেয়ারে বসে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আহসান হাবীব শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি নৈশপ্রহরীর পাঠদানের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন অভিভাবক কামরুজ্জামান নয়ন মণ্ডল। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর ওই অভিভাবকের ছেলে তাওহীদের (প্রাক-প্রাথমিক, রোল নম্বর ১৫) নাম হাজিরা খাতা থেকে কেটে ফ্লুইড দিয়ে মুছে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে শিশুটির পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা।
ভুক্তভোগী অভিভাবক কামরুজ্জামান নয়ন মণ্ডল বলেন, শিক্ষকরা ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে নিজেদের সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। নৈশপ্রহরী দিয়ে পাঠদানের প্রতিবাদে ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করায় তার শিশুসন্তানের নাম হাজিরা খাতা থেকে ফ্লুইড দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার ছেলে স্কুলে যেতে পারছে না এবং পড়াশোনাও বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদশা আলমের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের আরও অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে ‘পকেট ম্যানেজিং কমিটি’ গঠনের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ অনুযায়ী, পদাধিকারবলে সদস্য-সচিব হিসেবে বাদশা আলম তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী রিনা বেগমকে শিক্ষক প্রতিনিধি, বড় ভাই মাহবুবুর রহমান মিঠুকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য এবং নিকটাত্মীয় আবুল কালাম আজাদকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাব পাঠান। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদশা আলম। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করে বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে যান।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ফারুক বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।