
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ আরও অন্তত ছয় মাস দীর্ঘ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ পরিচালক লিওন প্যানেটা। তার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধ শেষ করার কোনো সুস্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না।
বারাক ওবামা প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ভয়াবহ অচলাবস্থায় আটকে গেছে। যুদ্ধ শেষ করার জন্য উভয় পক্ষের হাতেই এখন খুব কম বিকল্প রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, এই যুদ্ধ সমাধান না হয়ে আরও ছয় মাস চলার সম্ভাবনা রয়েছে।’
প্যানেটার মতে, ইরান যুদ্ধের পরিণতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের মতো হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা এমন একটি সময়ে যুদ্ধে যাচ্ছে, যখন পেন্টাগনের কমান্ড কাঠামো নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্যানেটা।
তার ভাষায়, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ‘কেউ যেন দায়িত্বে নেই’। এ ধরনের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের সামনে দেশটির দুর্বলতা প্রকাশ করছে বলেও তিনি মনে করেন।
প্যানেটা বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান হুমকির মধ্যে রয়েছে চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও সন্ত্রাসবাদ। এর পাশাপাশি ইরান থেকেও হুমকি রয়েছে। তবে তার উদ্বেগ হলো, চলমান পরিস্থিতি শত্রুপক্ষের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতার একটি বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
তবে প্যানেটার এসব বক্তব্যের সমালোচনা করেছে পেন্টাগন। মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, পরিস্থিতি বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং দেশের দায়িত্বশীল পেশাদার ও সামরিক সদস্যদের জন্য অপমানজনক।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, দেশের ওপর নতুন কোনো হামলা হলে তার জবাব হবে দ্রুত, তীব্র ও বেদনাদায়ক।
তার এই বক্তব্যের মধ্যেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে অননুমোদিত পথ ব্যবহারের অভিযোগে তারা যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট তিনটি নৌযান ও তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই ওই অভিযান চালানো হয়েছে।
ইরানের দাবির বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কাছে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান সংঘাতকে ‘তেমন কোনো বিষয়ই নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ওলফগ্যাং পিসজটাইয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সামরিক সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
তার মতে, সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।