
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তার দেখানোর পর রাকিবুল হাসানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমালোচনা করতে শোনা যায়। ওই অডিওতে রাস্তায় থাকা পুলিশকে দুর্বল বলার পাশাপাশি শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না—এমন বক্তব্যও শোনা যায়।
অডিওতে আরও দাবি করা হয়, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন, যদিও মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না। পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও ওই ব্যক্তিকে কথা বলতে শোনা যায়।
অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরদিন তাকে মিন্টো রোডে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে তার সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের নামে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপটি আদৌ তার কণ্ঠের কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।